দশ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো, জুলাই থেকে কার্যকর
দশ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো, জুলাই থেকে কার্যকর

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি চলছে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কিছু সময় লাগলেও নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই বেতন বৃদ্ধির সুবিধা কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোর আওতা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। একইসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জন্যও থাকছে বড় ধরনের সুখবর। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলেও জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর হবে। পরে গেজেট প্রকাশ হলে চাকরিজীবীরা জুলাই থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা পাবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব

পে-কমিশনের আলোচনায় বর্তমানে দুটি বিকল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমটি হলো অধিকাংশ গ্রেডে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়টি হলো ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন দ্বিগুণ করার ব্যবস্থা।

বিভিন্ন গ্রেডের বেতন প্রস্তাব

প্রস্তাব অনুযায়ী, চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা হতে পারে। সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অপরদিকে, নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের জন্য আরও বেশি সুবিধার আলোচনা চলছে। ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক দ্বিগুণ হলে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেতন বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে।

পেনশন কাঠামোর পরিবর্তন

নবম পে-স্কেলের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো পেনশন কাঠামোর পরিবর্তন। বর্তমানে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কম পেনশন পাওয়া লাখো অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারেন।

বাস্তবায়নের ধাপ ও বাজেট প্রভাব

সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে নবম পে-স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে মূল বেতনের অর্ধেক বৃদ্ধি কার্যকর হবে। দ্বিতীয় বছরে বাকি অংশ এবং তৃতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রথম বছরেই অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একটি বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লে বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে সরকার। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন নিম্ন আয়ের কর্মচারী ও স্বল্প পেনশনভোগীরা। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এখন সরকারি ঘোষণা ও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী।