টানা বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও নদীভাঙনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার, ত্রাণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে ১১টি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদর দফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোন কোন জেলায় বিজিবি মোতায়েন?
বিজিবি সদর দফতরের তথ্যমতে, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর—এই ১১ জেলায় বিজিবি সদস্যরা মোতায়েন হয়েছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিজিবির কার্যক্রম: আশ্রয়, ত্রাণ ও চিকিৎসা
বিজিবি জানিয়েছে, তারা নিরাপদ আশ্রয় প্রদান, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সেবা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় কাজ করছে। বন্যায় বিপর্যস্ত এলাকায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে বিজিবি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর ৯০টি পয়েন্টে চব্বিশ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালু রেখেছে।
বান্দরবানে বিজিবি ইতিমধ্যে ১২২টি পরিবারের ৬০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ১১৬ জন পর্যটক। এছাড়া তারা খাদ্য সহায়তা বিতরণ ও ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতেও সহায়তা করেছে বিজিবি।
অবকাঠামো সুরক্ষায় বিজিবি
নাইক্ষ্যংছড়িতে মাটি ধসের কারণে একটি সেতু দুর্বল হয়ে পড়লে বিজিবি সেটি সুরক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়। বিজিবির সমন্বিত প্রতিক্রিয়া, দ্রুত মোতায়েন ও মানবিক সহায়তা বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ ও মানবিক সংকট মোকাবিলা বিজিবির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলেও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিজিবির উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও অন্যান্য মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।



