সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাতিজাকে বিমানবন্দরে গ্রেফতার
ঢাকার দোহার উপজেলার শাইনপুকুর এলাকার চাঞ্চল্যকর রাফি হত্যা মামলার আসামি মিজানুর রহমান শাহিনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভাতিজা হিসেবে পরিচিত।
গ্রেফতারের সময় ও স্থান
বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান শাহিন জার্মানিতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি অন্য একটি দেশ হয়ে জার্মানি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের রায় ও আইনি প্রক্রিয়া
গ্রেফতারের পর বুধবার দুপুরে ঢাকার একটি আদালতে তাকে হাজির করা হলে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পিবিআইর পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, আসামিকে গ্রেফতারের পর অধিকতর তদন্তের জন্য সংবাদ মাধ্যমকে জানাতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
হত্যা মামলার পটভূমি
এই গ্রেফতারের পেছনে রয়েছে ২০২৫ সালের ২০ মে সংঘটিত একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ওই দিন রাফি নামে এক ব্যক্তিকে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের এজাহারে নাম রয়েছে শহিদ, টিটু, হুকুম আলী ও আলামিনের। তারা ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। বাতেন নামের আরেক আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামি আলামিনের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে যে, এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে মিজানুর রহমান শাহিনের নির্দেশনায়। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, আসামি শাহিন দীর্ঘ ১১ মাস ধরে পলাতক অবস্থায় ছিল। তার পরিবার সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি শাইনপুকুর এলাকার আজিজুল রহমান মিরাজের ছেলে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাতিজা হিসেবে সমাজে পরিচিত ব্যক্তি।
তদন্তের অগ্রগতি
পিবিআইর তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই গ্রেফতার হত্যা মামলার তদন্তে একটি বড় অগ্রগতি। তারা আশা করছেন, শাহিনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে যা মামলার অন্যান্য দিক উন্মোচনে সহায়ক হবে। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন যে, বিমানবন্দরে গ্রেফতারের সময় শাহিন কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেননি এবং শান্তভাবে গ্রেফতার মেনে নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শাইনপুকুর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। এখন আসামির গ্রেফতারে তারা কিছুটা স্বস্তি বোধ করছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে, কারণ এখনো একটি আসামি পলাতক রয়েছেন এবং মামলার গভীর তদন্ত চলমান।



