দুবাই ফ্লাইটে ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার: পাইলট-ক্রু-যাত্রীদের তথ্য চেয়েছে পুলিশ
দুবাই ফ্লাইটে ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, পুলিশের তথ্য চাওয়া

দুবাই ফ্লাইটে ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার: পুলিশের ব্যাপক তথ্য চাওয়া

দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের শৌচাগার থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ এখন ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের পাইলট, কেবিন ক্রু, টেকনিশিয়ান, ক্লিনার থেকে শুরু করে সব যাত্রীর তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্লাইটের ভেতর ও বাইরের সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীরা চেয়েছেন। এ ছাড়াও বিমানবন্দর থানা থেকে সবার নাম-ঠিকানা ও পদবি জানাতে বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও তদন্তের সূচনা

বিমানবন্দর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা ৮ মিনিটে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৪৮ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সি-০২ বোর্ডিং ব্রিজে অবতরণ করে। বিমানে তল্লাশি চালিয়ে ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এরপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়। স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িতদের খুঁজতে এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে ফ্লাইটের সব তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাইয়ুম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বিমানের কার্গো কম্পার্টমেন্টে প্রবেশ করল এবং কারা জড়িত তা উদঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। তদন্তের স্বার্থেই বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (সিইও) কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষকে আমরা চিঠি দিয়েছি, এখনও তথ্য, ভিডিও ফুটেজ পাইনি। পাশাপাশি বিমান ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সব তথ্য পেলে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িতদের শনাক্ত করতে সহজ হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিঠিতে চাওয়া তথ্যের বিস্তারিত

চিঠিতে ফ্লাইটে দায়িত্বে থাকা পাইলট ও কেবিন ক্রুদের পূর্ণাঙ্গ নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও বায়োডাটা; সংশ্লিষ্ট এয়ারক্রাফটের টেকনিক্যাল মেকানিক ও হেলপারদের তথ্য; ক্লিনিং স্টাফদের পরিচয়; ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত অন্য কর্মীদেরও বিবরণ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফ্লাইটের ভেতরের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ, বোর্ডিং ব্রিজ ও রানওয়ে এলাকার ভিডিওসহ যাত্রী তালিকা চাওয়া হয়। প্রত্যেক যাত্রীর পাসপোর্ট নম্বর ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।

সংঘবদ্ধ চক্রের সম্ভাবনা

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বর্ণগুলো যেভাবে শৌচাগারের প্যানেলের ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকানো ছিল, তা এককভাবে কারও পক্ষে করা সম্ভব নয়। এতে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্রের সম্পৃক্ততা থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষ করে ফ্লাইট ছাড়ার আগের সময়, উড্ডয়নকালীন পর্যায় কিংবা অবতরণের পর কোন সময়ে স্বর্ণগুলো বিমানে ঢোকানো হয়েছে, তা নির্ধারণই এখন তদন্তের মূল চ্যালেঞ্জ।

পুলিশের এই তদন্তে বিমান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কতটা দ্রুত আসে, তা এখন দেখার বিষয়। স্বর্ণ চোরাচালানের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।