কুমিল্লায় ডিবি পোশাক পরে মাদক পাচার: র্যাবের অভিযানে শীর্ষ সিন্ডিকেট ভেঙে ৭,৯০০ ইয়াবা জব্দ
কুমিল্লায় ডিবি পুলিশের পোশাক পরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও পাচার করে আসছিল একটি শীর্ষ মাদক সিন্ডিকেট। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি অভিযানে এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) নগরীর বিষ্ণপুর এলাকায় জুয়েলের গ্যারেজে চালানো অভিযানে ৭ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা, ডিবি পুলিশের দুটি জ্যাকেট, একটি হ্যান্ডকাফ, দুই বোতল বিয়ার, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ ও তিন বোতল স্কার্প জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম
অভিযানে মো. সিয়াম (২৩) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার রাঙ্গুরী গ্রামের মো. মজিবুর রহমানের ছেলে। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা, বিয়ার, বিদেশি মদ ও স্কার্প সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারিদের কাছে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন।
র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, "গ্রেফতার সিয়ামসহ গ্যারেজ মালিক সিন্ডিকেট ডিবি পুলিশের জ্যাকেট ও হ্যান্ডকাফ ব্যবহার করে নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করে আসছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই অভিযান র্যাব-১১ এর মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
অভিযানটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যা মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিল। জব্দকৃত মাদক ও সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে:
- ৭,৯০০ পিস ইয়াবা
- ডিবি পুলিশের দুটি জ্যাকেট
- একটি হ্যান্ডকাফ
- দুই বোতল বিয়ার
- পাঁচ বোতল বিদেশি মদ
- তিন বোতল স্কার্প
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই ঘটনা মাদক পাচার ও অপরাধী চক্রের নতুন কৌশল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে ডিবি পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক।
কুমিল্লা এলাকায় মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার এই অভিযান স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। র্যাবের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা মাদক বিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



