গাজীপুরে নৃশংস ডাকাতি: নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে টাকা-স্বর্ণ লুট
গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ডাকাতরা বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা নগদ, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের আনিছুর রহমানের বাড়িতে ডাকাতরা হামলা চালায়। আনিছুর রহমান স্থানীয় পিরুজালী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর চাকরি করেন। তার ছেলে নাজমুল সাকিব একটি কারখানায় কর্মরত। রাতের অন্ধকারে একদল ডাকাত তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে।
ডাকাতদের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল এবং তাদের হাতে চাপাতি দেখা গেছে। তারা প্রথমে আনিছুর রহমানের স্ত্রী আসমা আক্তার (৫৫) এর ওপর হামলা চালায়। আসমা আক্তারের চিৎকার শুনে পুত্রবধূ আরিফা আক্তার এগিয়ে এলে তাকে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়।
আরিফা আক্তার বলেন, "শাশুড়ির চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙে। দৌড়ে এসে দেখি পাঁচ-ছয় জন ডাকাত। তারা আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে। শাশুড়ি চিৎকার করলে ডাকাতরা তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এতে তার মৃত্যু হয়।"
লুটপাট ও পুলিশের তদন্ত
ডাকাতরা বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা নগদ, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা আসমা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কুমার কর বলেন, "লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত করছে। এটি ডাকাতি নাকি অন্য কিছু, দ্রুত প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।"
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
আনিছুর রহমান সকালে বাড়ি ফিরে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। তিনি বলেন, "আমি নৈশপ্রহরীর চাকরি থেকে সকালে খবর পাই। বাড়িতে এসে দেখি স্ত্রী মারা গেছেন, পুত্রবধূ বাঁধা অবস্থায়। ডাকাতরা সব টাকা-স্বর্ণ নিয়ে গেছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় আতঙ্কিত। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলেছে, তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে অচিরেই অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।



