মানিকগঞ্জের বালুমহালে আধিপত্য নিয়ে প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
মানিকগঞ্জে বালুমহালে আধিপত্য নিয়ে ম্যানেজার হত্যা

মানিকগঞ্জের বালুমহালে আধিপত্য নিয়ে প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ম্যানেজারকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকালে যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকদিয়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহিত মিরাজ হোসেন (৪০) পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই বালুমহালের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় নৃশংস হামলা

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে নদীপাড়ে একটি ড্রেজারে বসে মিরাজ ও তার সহযোগীরা বালু বিক্রির হিসাব-নিকাশ করছিলেন। এ সময় একটি স্পিডবোটে করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এসে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা প্রথমে মিরাজকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং পরে রামদা দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। স্থানীয়রা মিরাজকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলা শেষে তারা পুনরায় স্পিডবোটে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় জাহাঙ্গীর (৪২) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

হুমকি ও জিডি সত্ত্বেও ঘটনা

বালুমহালের ইজারাদার কাওছার হোসেন জানান, গত বুধবার জনৈক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিল— বাল্কহেড জাহাজে বালু বিক্রি করলে খুনের ঘটনা ঘটবে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিবালয় থানা পুলিশকে জানানো হয় এবং ওসির পরামর্শে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। কিন্তু জিডি করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ম্যানেজার মিরাজকে প্রাণ হারাতে হলো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইজারা পরিবর্তন ও উত্তেজনা

জানা গেছে, এতদিন ‘ইফতি এন্টারপ্রাইজ’ ইজারাদার হিসেবে বালুমহালটি পরিচালনা করে আসছিল। তবে গত মাসে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা বন্দোবস্ত পায়। এই ইজারা পরিবর্তন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের তদন্ত ও অভিযান

শিবালয় থানার ওসি (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো জানান, খবর পেয়ে পুলিশের ১২ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।