মানিকগঞ্জে বালুমহাল ম্যানেজারকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা বালুমহালের ম্যানেজার মিরাজ হোসেনকে গুলি করে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকদিয়া এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হামলাকারীরা স্পিডবোটে করে ঘটনাস্থলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে এবং মিরাজ হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি করার পর তাকে কুপিয়ে নিশ্চিত করে তার মৃত্যু।
হুমকি সত্ত্বেও ঠেকানো যায়নি হত্যাকাণ্ড
বালুমহালের ইজারাদার কাওছার হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, গত বুধবার এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছিল যে বাল্কহেড জাহাজে বালু বিক্রি করলে তাকে খুন করা হবে। এই হুমকির বিষয়টি শিবালয় থানার ওসিকে জানানো হয় এবং তার পরামর্শে বৃহস্পতিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডিও) করা হয়। কিন্তু সেই হুমকি শুধু মোবাইল ও কাগজে সীমাবদ্ধ থাকেনি; মাত্র একদিনের মধ্যেই তা বাস্তবে রূপ নেয়।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
বিকাল ৫টার দিকে নদীপাড়ে একটি ড্রেজারে বসে মিরাজ হোসেনসহ তার সহকর্মীরা হিসাব-নিকাশ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে স্পিডবোটে করে আসা দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। মিরাজ হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি করার পর তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলাকারীরা এরপর নির্বিঘ্নে স্পিডবোটে করে পালিয়ে যায়, যা একদম ফিল্মি স্টাইলের ঘটনা বলে স্থানীয়দের মন্তব্য।
স্থানীয়রা মিরাজ হোসেনকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মিরাজ হোসেনের বয়স ছিল ৪০ বছর এবং তিনি পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তেওতা বালুমহালের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আহত আরও একজন
এই হামলায় তেওতা আলোকদিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে জাহাঙ্গীর (৪২) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জু ও প্রত্যক্ষদর্শী আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলা বিকাল ৫টার দিকেই শুরু হয় এবং এটি ছিল সম্পূর্ণ প্রকাশ্য ও নির্দয়।
বালুমহালের ইজারা বিতর্ক
জানা গেছে, ইফতি এন্টারপ্রাইজ দীর্ঘদিন ধরে ইজারাদার হিসেবে এই বালুমহালটি পরিচালনা করে আসছিল। তবে গত মাসে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা বন্দোবস্ত পেয়েছে। এই ইজারা পরিবর্তনকে ঘিরে উত্তেজনা ও দ্বন্দ্বের কথাও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যা হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো জানান, খবর পেয়ে ওসির নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মিরাজ হোসেনের লাশ বর্তমানে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বালুমহালের কর্মীরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সুরক্ষা চাইছেন। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে জরুরি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে।



