কুমিল্লার ধর্মসাগরে পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত: কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
কুমিল্লায় পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত, দুই তরুণ গ্রেপ্তার

কুমিল্লার ধর্মসাগরে পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত: কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

কুমিল্লা নগরের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ধর্মসাগর পাড়ে এক পুলিশ কনস্টেবলকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটে, যেখানে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে পুলিশ সদস্য বখাটেদের হামলার শিকার হন। পুলিশের দ্রুত অভিযানে ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

জানা গেছে, কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত নারী কনস্টেবল জাকিয়া সুলতানা তাঁর স্বামী চাঁদপুর জেলা পুলিশের কনস্টেবল কাজী আবদুল্লাহ মো. জোবায়েরকে নিয়ে ধর্মসাগর পাড়ে বেড়াতে যান। সেখানে অবস্থানরত তিন বখাটে জাকিয়া সুলতানাকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করে। এর প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্য জোবায়েরের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জোবায়েরকে আঘাত করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। দিনের বেলায় জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশের দ্রুত অভিযান ও গ্রেপ্তার

ঘটনার পরপরই বিষয়টি কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নজরে এলে তিনি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় ডিবি ও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা–পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর টানা অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ী (মুন্সেফ কোয়ার্টার) এলাকার বাসিন্দা মো. রিফাত (১৯) এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ভুবনঘর এলাকার বাসিন্দা সিয়াম (২০)। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আজ শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম শাহ্ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সুপারের সতর্কবার্তা

জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং বা বখাটেদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। পুলিশ এসব বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর অপরাধের উদ্বেগজনক প্রবণতা তুলে ধরেছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আহত পুলিশ সদস্য জোবায়ের বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে এই ঘটনার তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং আরো সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের কার্যকরী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।