শ্যামলীতে উচ্ছেদ অভিযান: পুলিশ সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে এলো ফুটপাত দখলের দৃশ্য
শ্যামলীতে উচ্ছেদ অভিযান, পুলিশ সরে যাওয়ায় ফুটপাত দখল ফিরে এলো

শ্যামলীতে উচ্ছেদ অভিযান: পুলিশ সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে এলো ফুটপাত দখলের দৃশ্য

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ফয়সালের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামলী রিং রোড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ স্থাপনা সরানো হলেও, পুলিশ সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দোকানিরা আবার দখল করে নেন এলাকা। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকা ফিরে যায় আগের বিশৃঙ্খল চেহারায়।

অভিযানের সময় ও স্থান

উচ্ছেদ অভিযানটি শ্যামলীর রিং রোড, বিশেষ করে বাইতুস সালাম মসজিদের পাশের এলাকায় কেন্দ্রীভূত ছিল। পুলিশ ক্রেন ব্যবহার করে দোকানের সাইনবোর্ড ও ছাউনি ভেঙে দেয়, এবং একটি ভাজাপোড়ার দোকান উচ্ছেদ করে। তবে, অভিযান শেষ হওয়ার আগেই দোকানটি আবার চালু হয়ে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সংগ্রাম

আসমা বেগম নামে এক চায়ের দোকান মালিক, যিনি যশোরের বাসিন্দা, পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছিলেন দোকান উচ্ছেদ না করার জন্য। তিনি বলেন, ‘স্যার কোথায় যাব? আমার স্বামী নেই। একটা ছেলে প্রতিবন্ধীর মতো। একটু বিবেচনা করেন।’ আসমা বেগমের ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী, এবং পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব তাঁর উপরই বর্তায়, যা এই উচ্ছেদকে তার জন্য আরও কঠিন করে তোলে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বাশেত উল্লেখ করেন যে পুলিশ অভিযানের ঘোষণা আগে দিয়েছিল, তাই অনেক দোকানি সতর্ক ছিলেন। কিন্তু বিকেলের পর রাস্তায় যানজট ও হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে, যা অভিযানের স্থায়িত্ব না থাকলে কোনো পরিবর্তন আনে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ফয়সালের মতে, অভিযান পরিচালনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা হবে। তবে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ব্যাপারে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু জানাননি। ডিএমপির তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সতর্ক করে দেন যে, ‘আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে। যারা আবার ফুটপাত দখলে নিয়েছে, পরবর্তী অভিযানে তাদের প্রতি কঠোর আচরণ করা হবে।’

অভিযানের ধারাবাহিকতা ও সমালোচনা

উচ্ছেদ অভিযানটি শ্যামলী রিং রোডে সীমাবদ্ধ ছিল, এবং পুলিশ জানায় যে অন্যান্য এলাকায় আগামী শনিবার ফের অভিযান চালানো হবে। স্থানীয় দোকানি ও পথচারীরা এই অপরিকল্পিত অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যেখানে সাময়িক সমাধান ছাড়া কোনো সুফল পাওয়া যায় না। আসাদ হোসেনের মতো একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, ‘এক ঘণ্টা পার হয়নি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন; অথচ দেখেন কোনো চিহ্ন নেই। আগের মতোই রাস্তা দখল হয়ে আছে।’

এই ঘটনা ঢাকা শহরের ফুটপাত দখলের চলমান সমস্যা ও প্রশাসনের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা নাগরিক জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।