হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার: ব্যাপক তদন্ত শুরু
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় বিমানের বিভিন্ন পর্যায়ের সাত কর্মকর্তাকে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চার জনের ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কাস্টমসের মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
এদিকে এ ঘটনায় কাস্টমসের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত কোনও আসামি না থাকলেও বিমানকে অভিযুক্ত করা হয়। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ কারণে যাকে যখন প্রয়োজন জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে তদন্ত করছেন। তারা চেষ্টা করছেন, স্বর্ণের গন্তব্য কোথায় ছিল, কারা এই স্বর্ণগুলো আনলো তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, প্রথমত যে স্থান থেকে স্বর্ণগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে একজন সাধারণ যাত্রীর পক্ষে স্বর্ণ রাখা দূরের কথা, সহজে প্রবেশ করাই সম্ভব না। এ ক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিত যে, স্বর্ণগুলোর রাখার বিষয়ে বিমানের একাধিক ব্যক্তি জড়িত। সেই ব্যক্তিগুলোকে চিহ্নিত করতেই কাজ করা হচ্ছে।
তারা বলেন, যাত্রী নেমে যাওয়ার পর ফ্লাইটটিকে হ্যাঙ্গারে নিয়ে গিয়ে বিশেষভাবে লুকায়িত এই স্বর্ণগুলো খালাস হতো এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত থাকতে পারে এবং কারা এই স্বর্ণগুলো নিয়ে আসলো মূলত তাদের চিহ্নিত করতেই একাধিক টিম কাজ করছে।
জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিভাইস জব্দ
তদন্তের স্বার্থে কাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং কাদের ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে কর্মকর্তারা তাদের নাম না বললেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং ও ওই ফ্লাইটের সঙ্গে ছিলেন এমন সাত জনকে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কর্মকর্তারা বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ও নিজেদের অনুসন্ধানে খুব দ্রুতই এই স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে কারা জড়িত কোথায় নেওয়া হতো সবগুলো উদঘাটন হবে। আমরা সেইভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তদন্ত
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি পুলিশেরও একটি টিম কাজ করছে। ইতোমধ্যে তারাও ওই ফ্লাইট পরিচালনার সঙ্গে ক্যাপ্টেন, কেবিন ক্রুসহ সংশ্লিষ্টদের নাম পরিচয় নিয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ে কারা কাজ করতো তাদের বিষয়েও তথ্য নিয়েছে। তারাও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
ঘটনার পটভূমি
প্রসঙ্গত, শনিবার দিবাগত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। স্বর্ণগুলো দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮ কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর থেকে সাদা কাপড়ে মোড়ানো লুকায়িত অবস্থায় আসে। এখানে ১৫৩টি স্বর্ণের বার ছিল। যার মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম। ২৪ ক্যারেটের এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।



