জয়পুরহাটে কলাগাছ নিয়ে বিবাদে জেল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বৃদ্ধকে জখমের অভিযোগ
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী এক বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্রে জখম করার অভিযোগ উঠেছে জেল পুলিশ সদস্য মো. শাহিন হোসেনের বিরুদ্ধে। আহত বৃদ্ধ মো. ফরিদ হোসেন (৬৭) রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের উত্তর গনেশপুর গ্রামে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রামের মৃত ফকির উদ্দিনের ছেলে ফরিদ হোসেন বাড়ির পাশে কলাগাছ রোপণ করেছিলেন। সেই কলাগাছের পাতা প্রতিবেশী শাহিন হোসেনের বাড়ির দেওয়ালে লেগে যাওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তর্কের এক পর্যায়ে শাহিন হোসেন ও তার ছেলে মোরছালিন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফরিদ হোসেনকে কোপাতে শুরু করে। এ সময় ফরিদ হোসেনের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
বিবাদিত পক্ষের বক্তব্য
অভিযুক্ত শাহিন হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, "আমার স্বামী বৃহস্পতিবার ডিউটি শেষে বাড়িতে ফিরেছিলেন। সকালে সামান্য বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী ফরিদ হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ফরিদ হোসেন আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমার স্বামী ও ছেলে তাকে মারধর করেছে।"
শাহিন হোসেনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.স.ম সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু বলেন, "লোকমুখে মারামারির ঘটনাটি শুনেছি। তবে কোনো পক্ষই আমার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নিয়ে আসেননি।"
পুলিশ ও জেলা কারাগারের প্রতিক্রিয়া
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজ মো. রায়হান জানান, "গুরুতর আহত অবস্থায় ভিকটিম যখন থানায় আসেন, তখন দ্রুত তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জয়পুরহাট জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার তোফায়েল আহম্মেদ খাঁন বলেন, "এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। যদি কেউ অভিযোগ করেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "ঘটনার দিন শাহিন হোসেনের কর্মস্থলেই থাকার কথা ছিল। তার কোনো ছুটির অনুমোদন ছিল না।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ফরিদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন এবং তার আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক। কলাগাছ রোপণ ছিল তার জীবিকার একটি উপায়। এই সামান্য বিষয় নিয়ে এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সরকারি চাকুরে কীভাবে এ ধরনের সহিংস ঘটনায় জড়িত হতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



