নারায়ণগঞ্জে কলেজ শিক্ষককে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনতাই
নারায়ণগঞ্জের পূর্ব ইসদাইর এলাকায় এক কলেজ শিক্ষককে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী। আজ রোববার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রাবেয়া হোসেন উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষক ফারজানা আফরোজ নারায়ণগঞ্জ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
ছিনতাইয়ের বিস্তারিত ঘটনা
ফারজানা আফরোজ আজ সকালে নিজের ছেলে মোবাশ্বির হককে শহরের অক্টো অফিস এলাকার ব্রাইট স্কলার মাদ্রাসাতুল ওহিতে পৌঁছে দিয়ে রিকশায় করে বাড়িতে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ব ইসদাইর এলাকায় পৌঁছানোর পর একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী তাঁর রিকশার গতি রোধ করে। এরপর মোটরসাইকেল থেকে নেমে দুই ছিনতাইকারী চাপাতি গলায় ঠেকিয়ে তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়।
একপর্যায়ে ভয় দেখিয়ে ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছে থাকা একটি মুঠোফোন, একটি পার্স ও দেড় ভরি ওজনের সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ফারজানা আফরোজের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত ভীতিকর ছিল এবং তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশ এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত টহল ব্যবস্থা চালু করেছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, বিশেষ করে ভোরবেলা ও সন্ধ্যার সময় একাকী চলাফেরা করার ক্ষেত্রে।
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনা
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ৯ মার্চ খোদ শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক লুৎফর রহমানকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁর সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
এই ঘটনাগুলো নারায়ণগঞ্জে ছিনতাই ও অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক সচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব।



