মানিকগঞ্জে ইজিবাইক চালকের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার, বন্ধুদের হত্যার নৃশংস কাহিনী
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে একটি ভুট্টাখেত থেকে মানুষের একটি বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি নিজের খেতে ভুট্টা তুলতে গেলে মাথাটি দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। বানিয়াজুরী তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মাথাটি উদ্ধার করে।
হত্যার নৃশংস বিবরণ
পুলিশের ধারণা, এই মাথাটি তিন দিন আগে উদ্ধার হওয়া ইজিবাইক চালক রফিক মিয়ার (২৭)। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামে কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে তাঁর মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্তে উঠে আসে একটি মর্মান্তিক কাহিনী।
তদন্তে জানা গেছে, নিহত রফিক ও নির্মাণশ্রমিক রিপন মিয়া বন্ধু ছিলেন। রিপন পূর্বপরিকল্পনা করে রফিককে হত্যা করে তাঁর ইজিবাইক বিক্রির উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাঁজা সেবনের কথা বলে রফিককে ইজিবাইকে করে নদীর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে রিপনের সহযোগী আরমান হোসেন রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রিপন দা দিয়ে তাঁর গলাকেটে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় আরমান রফিকের দুই হাত এবং অপর সহযোগী সজীব হোসেন তাঁর দুই পা ধরে রাখেন।
গ্রেপ্তার ও ফরেনসিক পরীক্ষা
হত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রফিকের মাথা ও শরীর নদীতে ফেলে দেন। মাথা পানিতে ডুবে গেলেও শরীর ভেসে ওঠে। পরে তাঁরা রফিকের পেট কেটে লাশ নদীর তীরে মাটিচাপা দেন। ইজিবাইক চালক রফিকের লাশ উদ্ধারের পর করা মামলায় পিবিআই ঘিওর উপজেলার রাথরা গ্রামের মো. রিপন মিয়া (৩০), সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) এবং একই গ্রামের সজীব হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, ইজিবাইক চালক রফিককে গলাকেটে হত্যার পর তাঁর মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া মাথাটি রফিকের বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। বানিয়াজুরী তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক পুলক কুমার দাস মজুমদার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি নদীতে নিক্ষেপ করার পর ভাসতে ভাসতে ভুট্টাখেতের পাশে নদীর তীরে আসে। পরে কুকুর বা শেয়াল সেখান থেকে মাথাটি ভুট্টাখেতে নিয়ে আসতে পারে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মাথাটি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের সকল দিক উন্মোচনের চেষ্টা করছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড সমাজে অপরাধের মাত্রা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।



