হাটহাজারীতে তুলার গুদামে ১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগ
হাটহাজারীতে তুলার গুদামে মাদ্রাসাছাত্রীর মরদেহ, ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগ

হাটহাজারীতে তুলার গুদামে ১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর একটি তুলার কারখানার গুদাম থেকে ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রী আরেফিন আকতারের গলিত ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার চিকনদন্ডী ইউনিয়নের আমান বাজার এলাকার ইসহাক কলোনিস্থ মজিবুদ্দৌলাহ চৌধুরীর তুলার কারখানা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থা

নিহত আরেফিন আকতার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম ও আমেনা বেগম দম্পতির মেয়ে। পরিবারটি হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকার ইসহাক কলোনিতে ভাড়া বাসায় বসবাস করত। অসুস্থতার কারণে আরেফিনের বাবা ঘরে অবস্থান করতেন এবং তার মা একটি সুতার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

নিখোঁজ হওয়া ও মরদেহ উদ্ধার

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলোনি থেকে নিখোঁজ হয় আরেফিন। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরিবার হাটহাজারী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। দুই দিন পর শনিবার দুপুরে কারখানার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা গুদামে গিয়ে বস্তার নিচে মরদেহটি দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মায়ের অভিযোগ ও পুলিশের তদন্ত

নিহতের মা আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, একই কলোনির ভাড়াটিয়া মো. ফয়সাল (১৯) তার মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ফয়সাল বরিশালের পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার বাসিন্দা এবং প্রায় এক বছর ধরে ওই কলোনিতে বসবাস করছিল। সেখানে তার গর্ভবতী স্ত্রীও রয়েছে। নিখোঁজের পর ফয়সাল অন্যদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজিতে অংশ নিলেও মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

প্রযুক্তির সহায়তায় তল্লাশি ও প্রাথমিক ধারণা

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, নিখোঁজের পর প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফয়সাল নামের এক যুবক কিশোরীটিকে তুলার কারখানার গুদামের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে সেখান থেকেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মুখমণ্ডল বিকৃত অবস্থায় ছিল। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কিশোরীটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।