মানিকগঞ্জে বন্ধুদের হাতে অটোরিকশাচালকের নৃশংস হত্যা, মাথা এখনও উদ্ধার হয়নি
মানিকগঞ্জে অটোরিকশাচালকের নৃশংস হত্যা, মাথা উদ্ধার হয়নি

মানিকগঞ্জে বন্ধুদের হাতে অটোরিকশাচালকের নৃশংস হত্যা

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল এলাকার কালীগঙ্গা নদী থেকে একটি মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মরদেহের মাথাটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

নিহতের পরিচয় ও গ্রেপ্তার

মাথাবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মরদেহটি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের অটোরিকশাচালক রফিক মিয়ার (২৮)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তার তিন বন্ধু জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার (২৬ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • সদর উপজেলার পাছবারইল এলাকার সজিব মিয়া
  • আরমান হোসেন
  • ঘিওরের রাথুরা গ্রামের রিপন মিয়া

তারা সবাই নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং নিহত রফিক মিয়ার বন্ধু ছিলেন।

হত্যার বিস্তারিত ঘটনা

পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পীর বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ রাতে রফিক মিয়াকে গাঁজা খাওয়ার কথা বলে তার বন্ধু রিপন, সজিব ও আরমান আরেকটি অটোরিকশাযোগে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন, যার ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এরপর রিপন একটি দা দিয়ে রফিকের গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলেন। এই সময় আরমান হাত ধরে রাখেন এবং সজিব পা ধরে রাখেন। হত্যাকাণ্ড শেষে তারা মাথা এবং শরীর নদীতে ফেলে দেয়। ভোররাতে রিপন রফিকের অটোরিকশাটি নিয়ে সাভারে চলে যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মরদেহ উদ্ধার ও তদন্তের অগ্রগতি

গত ২৫ মার্চ বিকেলে নদী থেকে পুলিশ মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ২৬ মার্চ বেলা ২টার দিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাথা উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত আছে। পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী আরও উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাথা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, এবং পুলিশ দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।