চুয়াডাঙ্গায় ৭টি যুদ্ধকালীন ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয়, পাকিস্তানি বাহিনীর ফেলে যাওয়া
চুয়াডাঙ্গায় ৭টি যুদ্ধকালীন ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ৭টি যুদ্ধকালীন ল্যান্ডমাইন সফলভাবে নিষ্ক্রিয়

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের স্কুলপাড়া এলাকায় ফসলের ক্ষেতে পাওয়া সাতটি ল্যান্ডমাইন সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করার কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা একটার দিকে যশোর সেনানিবাসের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের প্রধান ক্যাপ্টেন রিফাতের নেতৃত্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনটি সম্পন্ন হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব ল্যান্ডমাইন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী বিস্ফোরক

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি বাহিনী যখন বাংলাদেশ ত্যাগ করে, তখন তারা এসব ল্যান্ডমাইন মাটিতে পুঁতে রেখে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় কৃষক সাইফুল ইসলাম তার জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য নালা খনন করার সময় মাইনগুলো দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। এরপর থেকে পুলিশ সেগুলো কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পাহারা দিচ্ছিল।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করার এক মাস পর ২৮ মার্চ যশোর সেনানিবাসের বিশেষায়িত দল সাতটি ল্যান্ডমাইন সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করে। তিনি বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন ছিল, যা আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষতার পরিচয় দেয়।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের স্মৃতিচারণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

মাখালডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, “ল্যান্ডমাইনগুলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। সে সময় বহু পাকিস্তানি সৈন্য মাখালডাঙ্গা, গাড়াবাড়িয়া ও দিননাথপুর এলাকায় যুদ্ধ করতো। যুদ্ধ শেষে তারা চলে যাওয়ার সময় হয়তো ল্যান্ডমাইনগুলো পুঁতে রেখে গেছে।” আব্দুল লতিফ বিশ্বাস নামে অন্য একজন স্থানীয়ও একই মত প্রকাশ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গাইদঘাট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম জানান, পাকিস্তানি বাহিনী বড় বড় ব্রিজ-কালভার্ট, ট্রাক ও ট্যাংক ধ্বংস করতে এসব ল্যান্ডমাইন ব্যবহার করতো। তিনি বলেন, “যুদ্ধের পর প্রায় ৫৫ বছর পার হতে যাচ্ছে। মাইনগুলো হয়তো আগের মতো শক্তিশালী অবস্থায় নেই, তবে মাইনগুলোর গায়ে হলুদ রঙের লেখা স্পষ্ট ও অবয়ব নতুনের মতনই আছে।”

নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা ও মূল্যায়ন

ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এসআই জালাল বলেন, “মনে হচ্ছে ১৯৭১ সালে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য পাকিস্তানি বাহিনী এগুলো এনেছিল।” ল্যান্ডমাইনগুলো কোন দেশের তৈরি বা এর সক্ষমতা কেমন—এ প্রশ্নের জবাবে নিষ্ক্রিয় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাইনগুলো ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীদের ফেলে রেখে যাওয়া।

এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করেন, সময়ের ব্যবধানে মাইনগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পেলেও সেগুলো এখনও বিপজ্জনক হতে পারে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে সফলভাবে নিষ্ক্রিয়করণ স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।