রাজশাহীতে আইজিপির গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা: পুলিশ হত্যার তদন্ত আইনের আওতায় সম্পন্ন হবে
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে শুক্রবার বিকেলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পুলিশ হত্যার তদন্তপ্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘শুধু পুলিশ বলছেন কেন, এখানে তো আমাদের পুলিশসহ অনেক লোকই মারা গিয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রতিটি জিনিসের যা হয়, সেটাই হবে। এর বাইরে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।’
পাসিং আউট প্যারেড উপলক্ষে রাজশাহী সফর
আইজিপি আলী হোসেন ফকির আগামীকাল শনিবার রাজশাহীতে পাসিং আউট প্যারেড উপলক্ষে রাজশাহীতে এসেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘পাসিং আউটে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় আসবেন এবং তিনি পাসিং আউট প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন। সেই উপলক্ষে রাজশাহীতে আসা। ঢাকার বাইরে আমার এই প্রথম প্রোগ্রাম। আমি রাজশাহীতে আগেও ছিলাম। রাজশাহীর প্রতি আমাদের একটু স্পেশাল নজরই আছে বলতে হবে।’
রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে
রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো বলে মন্তব্য করে আইজিপি বলেন, ‘রাজশাহীর মানুষ শান্তিপ্রিয়। এখানে ওই ধরনের যে খারাপ কাজে লিপ্ত হওয়া বা অপরাধের সংখ্যা অনেক কম।’ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আপনারা জানেন, ব্যাংক থেকে টাকা চলে গেছে। এ কারণে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির। অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোদমে চালু করতে হলে সরকারের এক নম্বর এজেন্ডা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল ভূমিকা পালন করে পুলিশ।’
পুলিশের মনোবল ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
আইজিপি জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশের মনোবল শূন্যের কোঠায় ছিল বলে উল্লেখ করেন, যা এখন রিগেইন করা হয়েছে। মাদকের সমস্যাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। পুরো ইয়াং জেনারেশন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাদকের প্রভাবে। কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন রকম অপরাধের সঙ্গে লিপ্ত হচ্ছে।’
সিলেটে বাউল মঞ্চ হামলা ও আইনের আওতা
সিলেটে বাউল মঞ্চে হামলাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘মানে সে যে মঞ্চ হোক, যেটাই হোক, আইনের আওতায় সবাই আসবে। আইন অনুযায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
এই সাক্ষাৎকারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।



