র‍্যাবের অভিযানে হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার সৈয়দ মুজিবুল হক, চন্দনপুরা গুলিবর্ষণে জড়িত
হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার সৈয়দ মুজিবুল হক, চন্দনপুরা গুলিবর্ষণে জড়িত

র‍্যাবের অভিযানে হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার সৈয়দ মুজিবুল হক

চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাব সৈয়দ মুজিবুল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সহযোগী বলে দাবি

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মুজিবুল হক বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, চন্দনপুরায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে র‍্যাবের দাবি।

গুলিবর্ষণের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চন্দনপুরায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসায় সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে স্মার্ট গ্রুপের কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাঁদা না পাওয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি প্রথম দফায় মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় গুলি চালানো হয়, যাতে বাসার জানালার কাচ ভেঙে যায়। এরপর দুই মাস পর ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও একই বাসায় সাজ্জাদের সহযোগীরা গুলিবর্ষণ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা বাসার পাশে এসে রাস্তা থেকে সাবমেশিন গানসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে থাকেন। ওই সময় বাসায় পরিবারের সদস্যরা থাকলেও কেউ হতাহত হননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

র‍্যাবের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি

জানতে চাইলে র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, "স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাসায় গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আসামি মুজিবুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা এই মামলার তদন্ত জোরদার করেছি এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।"

র‍্যাবের এই অভিযান চট্টগ্রাম অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।