লালবাগে মাদক আস্তানা উদ্ধার: ভাড়াটিয়া নারী আটক, বাড়িওয়ালার ছেলের জড়িততার অভিযোগ
রাজধানীর লালবাগ থানার নবাবগঞ্জ লেনে একটি গোপন মাদক আস্তানা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে ভাড়াটিয়া নারী বিনাকে আটক করা হয়, যার কাছ থেকে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লিটার বাংলা মদ জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যেখানে অভিযুক্ত নারী উচ্চ আদালতে চাকরি করেন বলে দাবি করেছেন এবং বাড়িওয়ালার ছেলে সাজ্জাদের জড়িততার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এলাকাবাসী বিকেলের দিকে বিনার বাসায় মাদক থাকার বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে এলাকাবাসী ও পুলিশ মিলে বাসায় প্রবেশ করলে সেখানে দুইটি বড় ড্রাম, কয়েকটি পাত্র এবং পলিথিনে রাখা মদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিনা মদ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বাথরুমে গিয়ে তা দিয়ে গোসল করেন এবং ড্রামে থাকা কিছু মদ ফেলে দেন।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন আলী জানান, এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ লিটার বাংলা মদসহ বিনাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে যতটুকু মদ পেয়েছি, তা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। সেখানে আরও মদ ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ ও জড়িততার দাবি
স্থানীয়দের দাবি, আটককৃত নারী বিনা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বাংলা মদসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বাসাটি মাদক সেবন ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে উঠতি বয়সী তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী লোকজনের যাতায়াত ছিল। আরও অভিযোগ রয়েছে, বাড়ির মালিকের ছেলে সাজ্জাদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। এমনকি সুবিধামতো এই ব্যবসা পরিচালনার জন্যই তাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বিনা দাবি করেন, তিনি একটি উচ্চ আদালতে চাকরি করেন এবং তার স্বামী তুহিনের সঙ্গে তিন-চার মাস ধরে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি অভিযোগ করেন, একই ভবনের নিচতলার আরেকটি কক্ষে বাড়িওয়ালার ছেলে সাজ্জাদ ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করতেন এবং তাকে নানা উপায়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে বাধ্য করতেন।
আর্থিক বিরোধ ও চাপের অভিযোগ
বিনা আরও জানান, কিছুদিন আগে মাদক ব্যবসার প্রায় ৩০ হাজার টাকার লেনদেন নিয়ে সাজ্জাদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই টাকা মাদক বিক্রির অর্থ ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া সাজ্জাদ ও তার দুলাভাই শাহিন একাধিকবার চাপ প্রয়োগ করে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করেন এবং পরবর্তীতে আরও ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে বাড়িওয়ালার ছেলে সাজ্জাদ স্বীকার করেন, তিনি মাঝেমধ্যে মাদক সেবন করতেন। নিচতলায় তার একটি ‘ক্লাবঘর’ ছিল, যেখানে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং হালকা মাদক সেবন হতো। তবে বর্তমানে তিনি মাদকের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
স্বামীর প্রতিক্রিয়া ও চলমান তদন্ত
এ ঘটনায় বিনার স্বামী তুহিনকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে বাড়িওয়ালার ছেলে সাজ্জাদ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারে, তবে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই অভিযানটি রাজধানীতে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।



