বাগেরহাটে পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে কলেজছাত্র হাজমা মুন্সীকে গুলি করে হত্যা
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে হাজমা মুন্সী নামের এক কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল ৪টায় উপজেলার শিবপুর গ্রামে সংঘটিত হয়। নিহত হাজমা মুন্সী শিবপুর গ্রামের রুহুল মুন্সীর ছেলে এবং খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রুহুল মুন্সী ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে খুলনায় বসবাস করেন। ঈদের ছুটিতে হাজমা মুন্সী বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার বিকালে প্রায় ৭-৮ জন যুবক মোটরসাইকেলে করে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের মাথায় হেলমেট ছিল এবং তারা পুলিশ পরিচয়ে হাজমাকে ধাওয়া দেয়।
হাজমা পালানোর চেষ্টা করে বাড়ির পেছনে একটি খালের পাড়ে পৌঁছালে ওই যুবকরা তার পিছু নেয়। এই সময় তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে, যা হাজমার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগে। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে দ্রুত চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
ঘটনার পর থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। চিতলমারী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তিনি বলেন, "এখনও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ আলামতসহ ঘটনা তদন্ত করে দেখছে।"
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন। হাজমা মুন্সীর পরিবার এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে গভীরভাবে শোকাহত। পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।



