নাটোরে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ডাকাতি: দুই কোটি টাকার সরঞ্জাম লুট, চার নিরাপত্তাকর্মী বাঁধা
নাটোরে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ডাকাতি, দুই কোটি টাকার সরঞ্জাম লুট

নাটোরে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বড় ধরনের ডাকাতি: দুই কোটি টাকার সরঞ্জাম লুট

নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার মূল্যের সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত চার নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে রেখে একদল ডাকাত এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি এবং লুট হওয়া মালামালও উদ্ধার হয়নি।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও উপকেন্দ্রের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই ব্যক্তি নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তারা প্রথমে পরিচিত লোকজনের খোঁজ করেন বলে জানা যায়। কিছুক্ষণ পর তারা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তিন নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে বেঁধে ফেলেন। পরে আরেক নিরাপত্তাকর্মীকে ফোন করে ডেকে এনে তাকেও একইভাবে বেঁধে ফেলা হয়।

এরপর প্রায় ৪০-৪৫ জনের একটি দল ট্রাক নিয়ে উপকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখান থেকে তারা তামার বৈদ্যুতিক তার, তার কাটার যন্ত্রপাতি, সিসিটিভি সরঞ্জাম এবং ওয়েল্ডিং মেশিন ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকা বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পুলিশ জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে ঘটনাটি জানানো হয়। পরে রাত সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার সকালে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘প্রথমে দুই ব্যক্তি সাধারণ পোশাকে ফটকে এসে শ্রমিকদের খোঁজ করেন। পরে আরও দুজন এসে তাদের বেঁধে মারধর করে। এরপর অন্য নিরাপত্তাকর্মীকেও ডেকে এনে একইভাবে বেঁধে রাখা হয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঈদের ছুটির কারণে ঘটনার সময় উপকেন্দ্রে শ্রমিক বা কর্মকর্তা ছিলেন না, যা ডাকাতদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

উপকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী আনাস রহমান বলেন, ‘লুট হওয়া মালামালের তালিকা করা হয়েছে। এসবের মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম বলেন, ‘সেখানে বিপুল পরিমাণ মালামাল সংরক্ষণের বিষয়ে পুলিশকে আগে জানায়নি বা কোনও সহযোগিতা চায়নি কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।’

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুমন আলী বলেন, ‘লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’

নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

এই ঘটনা নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি নির্মাণাধীন স্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে। পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতাও এই ঘটনায় একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

বর্তমানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সফলতা না আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্বস্তি বিরাজ করছে।