ঠাকুরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মশাল মিছিল ও নাশকতা পরিকল্পনায় ৮ কর্মী গ্রেফতার
ঠাকুরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মশাল মিছিলে ৮ গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের মশাল মিছিলে ৮ কর্মী গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁও সদর থানার গড়েয়া ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে মশাল মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আট নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের অভিযান ও জব্দকৃত সরঞ্জাম

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ খবর পায় যে গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী সাবেক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে জড়ো হয়ে মশাল প্রজ্বলন করছে। তারা রামদা, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল।

খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাকিনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকেই পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে আট জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাশকতার সরঞ্জাম হিসেবে একটি রামদা, সাতটি লোহার রড, চৌদ্দটি বাঁশের লাঠি, ডেনিসের কৌটা দিয়ে তৈরি দশটি মশাল এবং সাতাশটি ইটের টুকরো জব্দ করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও মামলার বিবরণ

গ্রেফতারকৃতরা হলেন: মো. সাজু (২০), মো. রাজু ইসলাম (২১), মো. তুহিন (২০), মো. ফাহাদ (১৯), মো. সাজু ইসলাম (১৯), মো. সাব্বির ইসলাম (১৯), মো. হামির আলী (১৯) এবং মো. নয়ন (১৮)। তারা সবাই গড়েয়া ও মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনায় সদর থানার এসআই মোস্তাকিন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রকাশ্যে সমর্থন প্রদান, জননিরাপত্তা বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

পুলিশের বক্তব্য ও চলমান তদন্ত

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদা সচেষ্ট রয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আরও জোরদার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।