খুলনায় ঘরে ঢুকে গুলি, একই পরিবারের চার সদস্য আহত
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বটিয়াঘাটা উপজেলার খাদিজাবাগ কৃষ্ণনগর ঠিকরাবাদ এলাকায় এ হামলা সংঘটিত হয়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আহত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার পটভূমি
আহত ব্যক্তিরা হলেন কাজী আনিসুর রহমান, তাঁর স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাহিমা। তাঁদের মধ্যে রঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাহিমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনিসুরের ছোট ছেলে রাশিদুল প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় কারাগারে যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে ইমরান নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরে সেই সূত্রে রাশিদুলের সঙ্গে ইমরানের পরিবারের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার সঙ্গে রাশিদুলের সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রায় ছয় মাস আগে ইমরান আবার একটি মামলায় কারাগারে গেলে রাশিদুল ফাহিমাকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইমরান প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার বর্ণনা ও আহতদের অবস্থা
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। গুলিবিদ্ধ ফাহিমা বলেন, সাত থেকে আট মাস আগে সাবেক স্বামী ইমরানের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি বিয়ে করেন। ভোরে তাঁর সাবেক স্বামী লোকজন নিয়ে এসে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের ওপর গুলি চালান। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান বলেন, রঞ্জুয়ারা বেগমের বুকে ও ফাহিমার পায়ে গুলি লেগেছে। শরীর থেকে গুলি বের করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান
এ ঘটনায় ছয়জন জড়িত বলে জানা গেছে। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করেছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে অপরাধীদের শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে। আহতদের পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।



