লালমোহনে লঞ্চের ধাক্কায় স্পীডবোট উল্টে পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ, আহত ৫
ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি দুর্ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ হয়েছেন এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে মৎস্য রক্ষা অভিযানে যাওয়ার সময় একটি স্পীডবোট লঞ্চের ধাক্কায় উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে, সন্ধ্যা ৮টার দিকে। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবলের নাম মো. ফখরুল ইসলাম, যিনি মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্য ছিলেন। আহত পাঁচজন হলেন মৎস্য অভিযান টিমের সদস্য, যাদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চ ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়াঘামী যাচ্ছিল, যাতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা ছিলেন। লঞ্চটি সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঙ্গলসিকদার ঘাটে পৌঁছায়। একই সময়ে, উপজেলা মৎস্য অফিসের তিন সদস্য এবং তিনজন পুলিশ কনস্টেবল একটি স্পীডবোটে করে অভিযানে রওনা হচ্ছিলেন।
অভিযান টিমের সদস্যরা
- লালমোহন মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী আব্বাস উদ্দিন
- ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন
- সাইফুল ইসলাম সোহাগ
- পুলিশের তিন কনস্টেবল, যাদের মধ্যে একজন নিখোঁজ ফখরুল ইসলাম
লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ানোর সময়, এর পেছনের প্রফেলারের ধাক্কায় স্পীডবোটটি উল্টে যায়। এতে পাঁচজন সাঁতরে পানিতে ভেসে থাকলে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়, কিন্তু ফখরুল ইসলাম নিখোঁজ রয়ে যান।
তল্লাশি অভিযান ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
লালমোহন থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম এবং মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এরশাদ উকিল জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী টিম নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ফখরুল ইসলামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে।
এই দুর্ঘটনা মৎস্য অভিযানের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে।



