বাগেরহাটে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আসামি ছিনতাই, আহত কনস্টেবল হাসপাতালে
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে তার সহযোগীরা। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামে এই হামলা সংঘটিত হয়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি নাদিম শেখ (৩৩) কে গ্রেপ্তার করতে এসআই আনিচুর রহমান ও এএসআই ইমদাদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি পুলিশ দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ নাদিমকে আটক করে নিয়ে আসার সময় তার ছোট ভাই সাগর শেখ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আসামি নাদিমকে ছিনিয়ে নিতে সাগর পুলিশ কনস্টেবল রাজু খানকে লক্ষ্য করে কোপ দিলে তার ডান হাত গুরুতরভাবে জখম হয়। এই সুযোগে নাদিম ও সাগর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহত কনস্টেবল রাজু খানকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আসামির পরিচয় ও পূর্বের অভিযোগ
পরোয়ানাভুক্ত আসামি নাদিম শেখ উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের মৃত গফফার শেখের ছেলে। ২০২৪ সালের একটি দস্যুতার মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়াও এলাকায় মারধর, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে নাদিম শেখের বিরুদ্ধে।
আহত পুলিশ সদস্য রাজু খান কচুয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও পূর্বের ঘটনা
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুর রহমান বলেন, "পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নাদিমকে গ্রেপ্তার করে। যখন নিয়ে আসছিল, তখন তার ভাই অতর্কিত হামলা করে আমাদের পুলিশ সদস্যদের উপর। এতে পুলিশ সদস্য রাজু খান গুরুতর জখম হয়। অপরাধিদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
উল্লেখ্য, এই এলাকায় পূর্বেও পুলিশ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের ২০ মার্চ রাতে খলিশাখালীর পাশের গ্রাম সম্মানকাঠিতে সন্ত্রাসী হামলায় কচুয়া থানার উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ০১ এপ্রিল বাগেরহাটের কচুয়ায় গ্রেপ্তার আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন।
বর্তমান ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।



