রামুতে পেট্রল পাম্পে অতিরিক্ত তেল না পেয়ে শটগান হাতে তাণ্ডবের চেষ্টা, ভিডিও ভাইরাল
পেট্রল পাম্পে তেল না পেয়ে শটগান হাতে তাণ্ডব, ভিডিও ভাইরাল

রামুতে পেট্রল পাম্পে অতিরিক্ত তেল না পেয়ে শটগান হাতে তাণ্ডবের চেষ্টা, ভিডিও ভাইরাল

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় একটি পেট্রল পাম্পে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল না পেয়ে এক ব্যক্তি শটগান হাতে তাণ্ডবের চেষ্টা করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পাম্পের কর্মীদের দিকে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের মরিচ্যা বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এশিয়া পেট্রল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় ‘বিকে আজম ব্রিক ফিল্ড’-এর মালিক বিকে আজম, যিনি সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেকপাড়া ইয়াছিনের (মিস্ত্রি) ছেলে বলে জানা গেছে।

পাম্প সূত্রে জানা যায়, বিকে আজম নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল দাবি করেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী রেশনিং ব্যবস্থার বাইরে তেল সরবরাহ সম্ভব নয় বলে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের গাড়ি থেকে শটগান বের করে পাম্পের কর্মীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, যা ভিডিওতে ধারণ হয়ে যায়।

আতঙ্ক ও উত্তেজনা

ঘটনার পরপরই পাম্পে কর্মরতদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবুও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অভিযুক্তের বক্তব্য ও পুলিশি ব্যবস্থা

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিকে আজম দাবি করেন, তিনি কেবল ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন, গুলি করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। তবে রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ জানান, ভুক্তভোগী পেট্রল পাম্প কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি, কিন্তু অভিযুক্তের এমন আচরণে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে অস্ত্র উঁচিয়ে এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ সম্পূর্ণরূপে জনবিরোধী ও আইনবহির্ভূত। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে পুলিশ সুপারের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।