খুলনা কেএমপির ৬ পুলিশ সদস্যকে বকশিশ ও সন্ত্রাসী সখ্যতার অভিযোগে প্রত্যাহার
খুলনা কেএমপির ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার

খুলনা কেএমপির ছয় পুলিশ সদস্যকে গুরুতর অভিযোগে প্রত্যাহার

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বকশিশ আদায়, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগে নগরীর লবণচরা ও দৌলতপুর থানার ছয় পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।

লবণচরা থানার চার সদস্যের বিরুদ্ধে বকশিশ আদায়ের অভিযোগ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন মিল-কলকারখানা থেকে বকশিশ আদায়ের অভিযোগে লবণচরা থানা ও ক্যাম্পে কর্মরত চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদেরকে অবিলম্বে দায়িত্ব হস্তান্তর করে কেএমপির বয়রাস্থ পুলিশ লাইনসে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন:

  • এসআই (নি.) মো. মিজানুর রহমান
  • এএসআই (নি.) এম এম জাহাঙ্গীর হোসেন
  • এএসআই (নি.) খালিদ হাসান
  • কনস্টেবল উৎপল হালদার

দৌলতপুর থানার দুই সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সখ্যতা ও মাদক সুবিধার অভিযোগ

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর দৌলতপুর থানায় কর্মরত আরও দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সখ্যতা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসআই (নি.) মো. আব্দুল হালিম ও এএসআই (নি.) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে একইভাবে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার নির্দেশ

অফিস আদেশে সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনারদের এসব অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, কেএমপিতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে যাতে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির অভিযোগ না ওঠে- সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই পদক্ষেপ পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে জবাবদিহিতা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।