আইজিপির বাড়িতে চুরির খবর মিথ্যা, পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন
বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের বাড়িতে চুরির খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার (১৮ মার্চ) বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আইজিপির বাসভবনে কোনো ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেনি।
গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার
পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিভিন্ন অনলাইন ও গণমাধ্যমে 'আইজিপির বাসভবনে চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে' বলে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছিল। এই সংবাদটি পুলিশের নজরে আসার পর তারা দ্রুত তদন্ত শুরু করেন। তিনি আরও যোগ করেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিছু গণমাধ্যম এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে, যা জনমনে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রকৃত ঘটনা কী ছিল?
প্রকৃত ঘটনা হলো, গত সোমবার রাত ১১টার দিকে ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। আইজিপির বাসার বাইরের দেয়াল সংলগ্ন সার্ভিস লাইনের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ওই তারগুলো নিয়ে যায়। এই বিষয়টি থানা পুলিশের নজরে আসার পর মঙ্গলবার একটি অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া তার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার অভিযান
ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
- মো. রবিউল ইসলাম (২৮ বছর)
- আব্দুর কাদের (২৪ বছর)
- মো. চঞ্চল শেখ (৩৮ বছর)
তাদের বাড়ি বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত। পুলিশ সুপার আরও বলেন, পুলিশ মহাপরিদর্শকের বাসভবনে চুরি সংক্রান্ত ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি জনসাধারণের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
আইজিপির পরিবারের বক্তব্য
এদিকে, আইজিপির নিকট আত্মীয় মিজান ফকির বলেন, ঝড়ের সময় দেয়াল সংলগ্ন সার্ভিস লাইনের তার পড়ে যায়। পরে সম্ভবত কেউ সেগুলো নিয়ে গেছে। পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করেছে এবং বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ এখন সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি নিয়ে তারা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করেননি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী শেষ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, আইজিপির বাসভবনে চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং এই মিথ্যা সংবাদ প্রচার বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি গণমাধ্যমকেও সঠিক তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন।



