রাউজানে শবে কদরের রাতে প্রবাসী বাড়িতে ডাকাতি, স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে ৯ জন আটক
রাউজানে প্রবাসী বাড়িতে ডাকাতি, স্থানীয়রা ৯ ডাকাত আটক

রাউজানে শবে কদরের রাতে প্রবাসী বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতি

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় শবে কদরের পবিত্র রাতে এক প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় জনতা একে একে ডাকাতদের খুঁজে বের করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৯ জন ডাকাতকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশবর্তী বদুপাড়া এলাকায় মৃত হাজী মো. ইউসুফের নতুন বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন, বাড়ির মৃত হাজী মুহাম্মদ ইউসুফের ছেলে মো. বাবুল, মৃত মঞ্জুরুল কাদের, আনসারুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম ও মো. হানিফের পরিবার।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, বাড়ির দ্বিতল ভবনের সিঁড়িঘরের টিনের ছাদ কেটে ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করে। বাড়ির সদস্যদের মধ্যে অধিকাংশই প্রবাসী। পরিবারের ছয় ভাইয়ের মধ্যে পাঁচজন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। এ সুযোগে ডাকাতরা বাড়ির নারীদের জিম্মি করে মারধর করে এবং হাত-পা বেঁধে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ এবং ঈদের জন্য রাখা কাপড়চোপড় লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের বর্ণনা

প্রবাসী আনছারুল ইসলামের স্ত্রী ভুক্তভোগী নারগিস আক্তার জানান, তিনি নামাজরত অবস্থায় ছিলেন। এ সময় ৬-৭ জন ডাকাত ঘরে ঢুকে তাকে ও তার সন্তানকে মারধর করে এবং অন্য সদস্যদের একত্র করে হাত-পা বেঁধে রাখে। তাদের হাতে লাঠি, লোহার রড, চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। তিনি জানান, তার প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১০ হাজার টাকা লুট হয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকেও নগদ দেড় লাখ টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় ডাকাতরা।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও আটক

স্থানীয় বাসিন্দা মো. পারভেজ বলেন, ঘটনার সময় অধিকাংশ মানুষ পাশের মসজিদে শবে কদরের ইবাদতে ছিলেন। এক আত্মীয় বাড়িতে এসে সন্দেহজনক লোকজন দেখে মসজিদে গিয়ে খবর দিলে মুসল্লিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে একজন এবং পরবর্তীতে আরও কয়েকজনকে আটক করে।

একজন অটোরিকশাচালক সৈয়দ মুহাম্মদ হানিফ জানান, ডাকাতির খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন। শতাধিক যুবক বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতদের ধরতে সক্ষম হয়। ভুক্তভোগীরা লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ডাকাত চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পুলিশের বক্তব্য

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, আটকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে, কারও বিরুদ্ধে ৪ থেকে ১২টি পর্যন্ত মামলা আছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বুধবার জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানান তিনি।