ঢাকার শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে যুবক হত্যা
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সোয়া ৯টার দিকে রাকিব (২২) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে বলেও জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাকিব নিয়মিত শহীদ মিনার এলাকায় যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন মাগরিবের পর থেকে তাকে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে চার-পাঁচজন যুবক তাকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ও কোমরের পাশে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশের তৎপরতা ও আটক
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ধাওয়া করে সিহাব (২১) নামের একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ
পুলিশের ধারণা, প্রেমের সম্পর্কের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এক নারীকে দুজন ভালবাসতো। এটি নিয়েই দ্বন্দ্বে গুলির ঘটনা ঘটেছে। ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম জানান, “আটক যুবক ও নিহত রাকিব— উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকতেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক নারীকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধ থেকেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
ময়নাতদন্ত ও তদন্তের অগ্রগতি
শাহবাগ থানার ওসি (অপারেশন) খোকন মিয়া জানান, নিহতের মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, আটকের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নেমেছে।
এই ঘটনা ঢাকা শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
