চাঁদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সেজে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: পরিবারের ৬ সদস্য জিম্মি, লুট ৫ লাখ টাকার বেশি
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার খিলমেহের গ্রামে এক শনিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে একদল ডাকাতের দুর্ধর্ষ হামলা ঘটেছে। মুখোশধারী এই ডাকাত দল রাত ১টার দিকে স্থানীয় শিকারি পরিবারের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের ছয় সদস্যকে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এই হামলায় পরিবারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীও রয়েছেন।
ডাকাতদের নৃশংস অভিযান: জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশ
শনিবার (১৪ মার্চ) দিনগত রাত ১টার দিকে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল মো. হারুন শিকারির বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। বাড়ির লোকজন সন্দেহ করলে ডাকাতরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করে। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মারধর শুরু করে।
ঘরের আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ডাকাতরা নগদ ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৩টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন গৃহকর্তা হারুন শিকারী (৬৫), তার স্ত্রী মোরশেদা বেগম (৫৫) এবং পুত্রবধূ তুলি বেগম (২৫)। এছাড়া জিম্মি করা হয় পুত্রবধূ তুলী আক্তার, মুন্নী আক্তার এবং নাতনি হামিদা আক্তারকে।
ভুক্তভোগীদের বয়ান: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক বলে ধোঁকা
ভুক্তভোগী হারুন শিকারী ও তার স্ত্রী মোরশিদা বেগম জানান, "হঠাৎ করে ঘরে ঢুকে ডাকাতরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পরিচয় দেয়। পরে সবাইকে বেঁধে রেখে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারিনি, তারা অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছিল।"
ডাকাতরা ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজে বের করে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযান: দ্রুত শনাক্তের আশ্বাস
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন ঘটনাটি সম্পর্কে বলেন, "আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ডাকাতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে অপরাধ করা আরও নিন্দনীয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণ করে ডাকাতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং আশেপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি করছেন যে এই অঞ্চলে সম্প্রতি ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে এবং আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তারা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
