ভোলার ঢালচরে জাহাঙ্গীর বাহিনীর অত্যাচারে বিক্ষোভ, দাবি গ্রেফতার ও শাস্তির
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়নের তারুয়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় শ্রমিক দল নেতা জাহাঙ্গীর বাহিনী ওরফে কোরল জাহাঙ্গীরের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় নারী-পুরুষরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে তারুয়া সমুদ্র সৈকত সড়কে শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
অভিযোগ ও বিক্ষোভের কারণ
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন যে, চালচর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত হাতেম আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কোরল জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, চুরি, অস্ত্রের মহড়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে আসছে। স্থানীয় জেলে আজিজ বাবুল বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্রের আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনী মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং রাতের বেলায় বাড়িঘরে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে।
নারীদের উপর নির্যাতন
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রোকসনা বেগম ও সাজু বিবিসহ কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন যে, জাহাঙ্গীর ও তার ছেলেরা বিভিন্ন নারীদের কুপ্রস্তাব দেয়। গত সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় কোরল জাহাঙ্গীরের ছেলে এমরান, আল-আমিন ও সজিব তাদের বাড়ির টয়লেটের বদনায় মরিচের গুঁড়ো দিয়ে আহত করে। বিষয়টি জানালে উল্টো হামলা করা হয়, যাতে ৫-৬ জন আহত হন। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি ও সতর্কতা
স্থানীয় কৃষক কাদের মাঝি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কোরল জাহাঙ্গীর বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
জাহাঙ্গীরের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে।" তিনি বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
পুলিশের বক্তব্য
ঢালচর ফাড়ি ইনচার্জের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা এসআই মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে তদন্ত করেছেন। জনগণের নিরাপত্তা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
