সিলেটে পুলিশকে ঘুষি: পিকআপ চালকের মারধর ও হাসপাতালে ভর্তির ঘটনায় তদন্ত চলছে
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বাবনা পয়েন্টে পুলিশ সদস্যকে এক যুবকের ঘুষি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কিছু ব্যক্তি তর্কাতর্কি করছেন। হঠাৎ উদোম শরীরের এক যুবক একজন পুলিশ সদস্যের কানে জোরে ঘুষি দেন।
ঘটনার সময় ও পটভূমি
গত সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওটির অংশবিশেষ ভাইরাল হয়েছে। মূলত এক পিকআপ ভ্যানের চালক রাত দুইটার দিকে নগরের সুবিদবাজার এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ওই চালককে থামার নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশনা অমান্য করে চালক দ্রুত পিকআপ নিয়ে রিকাবিবাজারমুখী সড়ক ধরে চলে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিদবাজারে তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বরত এক সার্জেন্ট ওয়ারলেস বার্তায় জানান যে এক পিকআপচালককে থামার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তিনি থামেননি। এ সময় তিনি ওই চালককে ছিনতাইকারী হিসেবে সন্দেহ করেন। বার্তা পাওয়ার পর সুবিদবাজার এলাকায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট পিকআপটির পিছু নেন। বার্তা পেয়ে রাস্তায় কয়েকটি স্থানে টহলরত পুলিশ পিকআপচালককে থামার নির্দেশনা দিলেও চালক থামেননি।
মারধর ও ঘুষির ঘটনা
পরে দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে চালক থামেন। সেখানে সার্জেন্টও থামেন এবং তাঁকে ছিনতাইকারী হিসেবে উপস্থিত জনসাধারণের সামনে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সার্জেন্টের কথায় উপস্থিত লোকজন পিকআপচালককে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের এক পর্যায়ে লোকজন জানতে পারেন, ওই যুবক ছিনতাইকারী নন, পিকআপচালক। এ সময় স্থানীয় পরিবহননেতারা এসে পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হন। এমন সময় যুবকটি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক পুলিশ সদস্যের কানে ঘুষি দেন।
এর কিছুক্ষণ পর যুবকটি বমি করতে শুরু করেন। রাত তিনটার দিকে ওই চালককে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। মো. জুয়েল মিয়া (৩০) নামের ওই পিকআপচালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা এলাকায়।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি। প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করছি। বর্তমানে ওই যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’ পুলিশ এখন ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে প্রকৃত সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই পুলিশের ভূমিকা ও জনগণের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পুলিশ কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



