সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইকারীর পরিচয় শনাক্ত, অপর লাশ অজ্ঞাতই রয়ে গেল
সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইকারীর পরিচয় শনাক্ত, অপর লাশ অজ্ঞাত

সিদ্ধিরগঞ্জে দুই দিনে দুই লাশ উদ্ধার: একের পরিচয় শনাক্ত, অপরটি রহস্য

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পরপর দুই দিন দুইটি লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রথম ঘটনায় গণধোলাইয়ে নিহত এক ছিনতাইকারীর পরিচয় পুলিশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ঘটনায় খালের পানিতে ভাসমান অপর লাশের পরিচয় এখনো অজ্ঞাত রয়ে গেছে, যা তদন্তকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণধোলাইয়ে নিহত ছিনতাইকারীর পরিচয় উদঘাটন

গত ৮ মার্চ ভোর ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি কড়ইতলা মোড়ের রাস্তায় একটি অটোরিকশা চলাচলরত অবস্থায় তিন সশস্ত্র ছিনতাইকারী হুন্ডা নিয়ে এসে গতিরোধ করে। তারা যাত্রীদের দেশীয় অস্ত্র চাকু ও চাপাতির ভয় দেখিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনতাই করতে থাকে। এই সময় পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি অটোরিকশার যাত্রীরা ঘটনা বুঝতে পেরে ডাকচিৎকার করে ছিনতাইকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের আর্তচিৎকারে পথচারী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন, যা দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।

এই সংঘর্ষে তিন ছিনতাইকারীর মধ্যে দুইজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একজন জনতার হাতে আটক হয়। ক্ষুব্ধ পথচারী ও স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দিতে শুরু করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়। উত্তেজিত জনতা ছিনতাইকারীদের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটিও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানতে না পারলেও পরবর্তীতে তদন্ত চালিয়ে তার সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

ছিনতাইকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও পুলিশের বক্তব্য

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আতাউর রহমান জানান, গণপিটুনিতে নিহত ছিনতাইকারীর নাম জাকারিয়া হোসেন হৃদয়। তিনি চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন চন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের দারুল হুদার ছেলে। সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকার ওসমাগনি রোডে তিনি পরিবার নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করতেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি চাকু ও একটি চাইনিজ চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

আতাউর রহমান আরো উল্লেখ করেন, জাকারিয়া হোসেন হৃদয়ের লাশ পোস্টমর্টেম শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তার বাকি দুই সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা পুলিশের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

খালে ভাসমান অজ্ঞাত লাশের রহস্য

এদিকে ৯ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জের ৯নম্বর ওয়ার্ড জালকুড়ি এলাকার একটি খাল থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (পুরুষ) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা সকালে খালের পানিতে লাশটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে, কিন্তু এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের বয়স আনুমানিক ৩৫-৪০ বছরের হবে। লাশটি অর্ধগলিত হয়ে যাওয়ায় ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো যোগ করেন, নিখোঁজ কোনো ব্যক্তির সন্ধানে কেউ এখনো (বুধবার বিকাল ৪টা) থানায় যোগাযোগ করেনি, যা এই ঘটনাকে আরো জটিল করে তুলছে।

উপসংহার ও চলমান তদন্ত

সিদ্ধিরগঞ্জে এই দুইটি লাশ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রথম ঘটনায় ছিনতাইকারীর পরিচয় শনাক্ত হলেও দ্বিতীয় ঘটনায় লাশের পরিচয় অজানা থাকায় পুলিশ ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে। উভয় ঘটনাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুতই এই রহস্যের সমাধান হবে।