টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা: শীর্ষ কারবারি আটক
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র্যাবের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ থেকে ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। একই অভিযানে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে বলে র্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। র্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১ এর স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা জানান, নাজিরপাড়ায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং র্যাবের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সোহেল রানা বলেন, "আমি নিজেসহ ৮ থেকে ১০ জন সদস্য আহত হয়েছি। আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।" টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ সরকার জানান, আহত অবস্থায় র্যাবের সাত সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আটক কারবারি ও স্থানীয়দের বক্তব্য
ঘটনাস্থল থেকে আটক করা শীর্ষ মাদক কারবারির নাম ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকার সিদ্দিক আহমেদের ছেলে। র্যাব সূত্রে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ভিন্ন কথা বলেছেন। তারা জানান, ওই সময় নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে উপস্থিত সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফরিদ আলমকে র্যাব সদস্যরা আটক করলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কিছু লোক র্যাবের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।
আটক ফরিদ আলমের বাবা সিদ্দিক আহমেদ দাবি করেন, "আমাদের ইফতার মাহফিলের সময় সাদা পোশাক ১০-১৫ র্যাবের সদস্য কোনও কথা ছাড়া আমাদের ঘিরে ফেলে। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার শুরু করে। এতে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।" তিনি আরও বলেন, "আমার ছেলে ফরিদ আলমের বিরুদ্ধে কোনও মামলার ওয়ারেন্ট নেই, মূলত আমাদের হয়রানি করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা কোনও গাড়িতে আগুন দেইনি।"
পুলিশের পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া
ঘটনা স্বীকার করে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, র্যাবের অভিযানের সময় ওই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, "র্যাব অভিযোগ দিলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
র্যাব সূত্রে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
