নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মসজিদের ইমাম ও তাঁর ভাইয়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা
নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক মসজিদের ইমাম ও তাঁর ছোট ভাইয়ের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ইমাম আবুল খায়েরকে কুপিয়ে জখম করার পরদিন শনিবার রাতে তাঁর ছোট ভাই ইয়াকুব আলীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত দুজনই বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
হামলার বিস্তারিত ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে বাগাতিপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুনিপাড়া মসজিদের ইমাম আবুল খায়ের জুমার ইমামতি শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতরভাবে জখম হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
এ ঘটনার মাত্র এক দিন পর, গত শনিবার রাত আটটার দিকে ইমাম আবুল খায়েরের ছোট ভাই ইয়াকুব আলীর ওপর রাস্তায় সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত ইয়াকুব আলীকে উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতের অভিযোগ ও পুলিশের তদন্ত
আহত ইয়াকুব আলী অভিযোগ করেছেন যে, হামলাকারীদের মধ্যে মিরাজ, তাঁর ছেলে মেহেদী, সাইফুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি দাবি করেন, এই ব্যক্তিরা আগের দিন তাঁর বড় ভাই আবুল খায়েরের ওপর হামলায়ও জড়িত ছিলেন।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি বলেন, "তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল কর্মকর্তা সজিবুর রহমান উল্লেখ করেছেন, রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
