খুলনায় নারীসহ পাঁচটি পিস্তল ও ৯৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, মাদক চোরাচালানের তথ্যে অভিযান
খুলনা মহানগরীর লাবণচড়া থানা এলাকায় মাদক চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে একটি যৌথ অভিযান চালিয়ে পুলিশ এক নারীকে পাঁচটি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ৯৬ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার সকালে নিজখামার এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়, যা অপরাধ দমনে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত নারীর পরিচয় ও অভিযানের বিবরণ
গ্রেপ্তারকৃত নারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে সুরাইয়া পারভীন সুমি নামে, যিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং তার বয়স ৩৭ বছর। লাবণচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান বিডি গেজেটকে জানান, একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নিজখামার এলাকায় অভিযান চালায়।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, "আমরা তথ্য পেয়েছিলাম যে সাতক্ষীরা থেকে মাদকদ্রব্যের একটি চালান খুলনার মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করি এবং একটি যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা করি।"
অভিযানের সময় কী ঘটেছিল?
অভিযানের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় আসা একটি ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের বাস থামিয়ে তল্লাশি চালায়। ওসি তুহিনুজ্জামানের বর্ণনা অনুযায়ী, সুরাইয়া পারভীন সুমির আচরণ ও চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তার দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করে। এই তল্লাশিতে পাঁচটি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন এবং ৯৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত নারীকে পরে লাবণচড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে, যা এই ঘটনার গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।
যৌথ অভিযানের অন্যান্য উদ্ধার
খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিডি গেজেটকে জানান, এই যৌথ অভিযানের সময় আইন প্রয়োগকারীরা প্রথমে এলাকা থেকে ৮০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে। পরবর্তীতে, অতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় আসা একটি বাসের যাত্রী নারীটির কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, "এই অভিযানটি মাদক চোরাচালান ও অস্ত্র পাচারের মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগের ইঙ্গিত দেয়, যা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। আমরা এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।"
এই ঘটনাটি খুলনা অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয়তা ও সতর্কতাকে প্রতিফলিত করে, যা অপরাধ দমনে তাদের প্রতিশ্রুতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানের জন্য পুলিশের প্রশংসা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম চলমান থাকবে।
