নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী যুবকের গণপিটুনি ও গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় এক যুবককে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক যুবক হিমন হামিদ (২৮) স্থানীয় একটি ছিনতাই চক্রের মূলহোতা হিসেবে সন্দেহভাজন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
গত শুক্রবার ইফতারের পর এক পথচারীকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন ছিনতাই করার চেষ্টা করেন হিমন হামিদ। এই সময় স্থানীয় জনতা তাকে ধরে ফেলে এবং তীব্র গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে বন্দর থানার পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। সর্বশেষ শনিবার (৭ মার্চ) তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, হিমন হামিদ বন্দরের কদম রসুল নূরবাগ এলাকার মৃত আজিজ মিয়ার ছোট ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছিনতাই ছাড়াও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পূর্বের মামলা ও তদন্ত
গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বন্দর এলাকায় দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা নাছির উদ্দিনের মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইয়ের এক ঘটনায় হিমন হামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই সময় এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালায়, কিন্তু হিমন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় ধরা পড়েননি।
শুক্রবারের ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় স্থানীয়রা তাকে আটক করে এবং পুলিশে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাকে সাংবাদিক কন্যা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেন। পূর্বের মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
বন্দর থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, "মামলাটি দায়ের হওয়ার পর আমরা তাকে গ্রেপ্তারে দুইবার অভিযান চালিয়েছিলাম। কিন্তু সে বাড়িতে অবস্থান করতো না, আত্মগোপনে ছিল। তার একটি ছিনতাইকারী চক্র রয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "গত ২ ফেব্রুয়ারি দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে ছিনতাই চক্রে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।"
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করছেন যে, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
