লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রিকশাচালকের মারামারি থামাতে গিয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু
রিকশাচালকের মারামারি থামাতে গিয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রিকশাচালকের মারামারি থামাতে গিয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দুই রিকশাচালকের মধ্যে সংঘটিত মারামারি থামাতে গিয়ে ঘুষিতে বিল্লাল মিশরী (৪০) নামের এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে পৌর শহরের প্রধান সড়কে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত বিল্লাল মিশরী উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ওই এলাকার মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুরে বিল্লাল মিশরী শহরে তরমুজ কিনতে আসেন। এ সময় পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বয়াতি বাড়ির শাহ আলমের ছেলে রিকশাচালক আব্দুর রহমানের (৩৫) সঙ্গে ভাড়া নিয়ে আরেক রিকশাচালকের কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। বিষয়টি দেখে এগিয়ে গিয়ে বিল্লাল বাধা দেন। এতে আব্দুর রহমান উত্তেজিত হয়ে ওই রিকশাচালককে ঘুষি দিলে সেটি বিল্লালের বুকে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক ও স্বজনদের বক্তব্য

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, ‘বিল্লাল মিশরীকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃৎপিণ্ডের ওপর ঘুষির আঘাত লাগার কারণে মৃত্যু হতে পারে। এ ছাড়া তার শরীরে অন্য কোনও জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’

বিল্লালের স্বজন আইনজীবী সহকারী টিপু হোসেন বলেন, ‘বিল্লালের চোখে, মুখে, বুকে কিলঘুষি মেরে জখম করে পালিয়ে যান রিকশাচালক আব্দুর রহমান। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার বিচার দাবি করছি আমরা।’

বিল্লাল মিশরীর বোন বিলকিস আক্তার বলেন, ‘মারধরের পরই আমার ভাই বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের কথা বলছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। তা সন্তানরা এতিম হয়ে গেলো। আমরা বিচার চাই।’

অভিযুক্তের পলায়ন ও পুলিশের পদক্ষেপ

ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত রিকশাচালক আব্দুর রহমান। এ বিষয়ে তার বাবা শাহ আলম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমার ছেলে অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী বিচার হোক।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তবে ঘটনার পরই জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’