উত্তরায় গৃহকর্ত্রী হত্যার ঘটনায় দারোয়ান ও ভাড়াটিয়া গ্রেপ্তার
রাজধানীর উত্তরায় নিজ ফ্ল্যাটে ঢুকে এক গৃহকর্ত্রীকে হত্যা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাড়ির দারোয়ান এবং এক ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাড়ির দারোয়ান নূরে আলম বাঘ (৪৭) এবং চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া মো. রাসেল মাতবর ওরফে জনি (২৫)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে আরও কয়েকজন জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে একজন এখনও পলাতক রয়েছে।
ঘটনার সময় ও স্থান
গত সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ফ্ল্যাটে ঢুকে রেজিনা মমতাজ (৬৩) নামে ওই নারীর হাত-পা বেঁধে এবং মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
তুরাগ থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরিকল্পিতভাবে এই লুটপাট ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের পরিবারের প্রতিক্রিয়া
এদিকে নিহতের ছেলে রাইসুল আলম তার মায়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং আশা করি অপরাধীরা কঠোর শাস্তি পাবে।"
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে এবং সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে, এবং তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
