ওয়ারীর স্বামীবাগে মাদকবিরোধী অভিযানে ডিএনসি কর্মকর্তাকে গুলি: ৪ গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার
পুরান ঢাকার ওয়ারীর স্বামীবাগ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানকে গুলির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি পয়েন্ট ৩২ বোর রিভলবার, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, ২৩ রাউন্ড গুলি, পাঁচ রাউন্ড গুলির খোসা এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রেফতারকৃতরা হলেন সৈয়দ জিসান আহমেদ, সৈয়দ হাসিবুল হাসান ওরফে পিয়াস, ওমর ফারুক সায়েম এবং সোলায়মান হোসেন চৌধুরী।
ঘটনার ক্রমবিকাশ
মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, গত ২ মার্চ দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ওয়ারী থানার স্বামীবাগের সায়েদাবাদ রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি টিম। অভিযানের একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন দুষ্কৃতকারী অধিদফতরের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এতে তার পায়ে গুলি লাগে এবং দুষ্কৃতকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
সংবাদ পেয়ে ওয়ারী থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুষ্কৃতকারীদের সম্ভাব্য পলায়নপথে ধাওয়া করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা একটি আগ্নেয়াস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে চার রাউন্ড গুলিভর্তি একটি পয়েন্ট ৩২ বোর রিভলবার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত পাঁচ রাউন্ড গুলির খোসা জব্দ করা হয়।
গ্রেফতার ও জব্দকৃত অস্ত্র
পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। একই সূত্র ধরে পৃথক অভিযানে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি।
মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
জব্দকৃত অস্ত্র সংক্রান্তে ওয়ারী থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে এবং আরও একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি। এছাড়া হামলার ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সফল গ্রেফতার অভিযান নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ জাগিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
