যশোরে ভেটেরিনারি ওষুধ ব্যবসায়ী অপহরণ: এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি
যশোরে জাহাঙ্গীর আলম (৪৮) নামের এক ভেটেরিনারি ওষুধ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভুক্তভোগীর স্ত্রী রেশমা খাতুন যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অপহৃত জাহাঙ্গীর আলম তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে শহরতলী খোলাডাঙ্গা কদমতলা এলাকায় বসবাস করেন। তার শহরের শংকরপুরে সরকারি ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে আরআর মেডিকেল নামে ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা রয়েছে। ঘটনার পর থেকে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় সময় পার করছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অপহরণের বিস্তারিত বিবরণ
থানায় লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে খোলাডাঙ্গা কদমতলার বাসায় ফিরছিলেন। পথে চাঁচড়া রায়পাড়া পীরবাড়ি মোড়ে পৌঁছলে একটি প্রাইভেটকারে কয়েকজন এসে গতিরোধ করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পরে জাহাঙ্গীর আলমের ব্যবহৃত ফোন নম্বর থেকে রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রীর ফোনে কল করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। না হলে তাকে হত্যা করা হবে মর্মে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
রেশমা খাতুন জানান, তার স্বামী সাত বছর ধরে ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা করে আসছেন। তিনি রাতে তারাবিহ পড়ে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ইফতার নিয়ে তিনি দোকানে যান। এরপর ইফতার শেষে তারাবিহ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রায়পাড়া এলাকায় পৌঁছলে ছয় থেকে সাতজন গতিরোধ করে অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি সাদা প্রাইভেটকারে তাকে জোরপূর্বক তোলা হয়। আর দুজন জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে প্রাইভেটকারের সঙ্গে অজানা গন্তব্যে যায়। রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরের নাম্বার থেকে হঠাৎ কল আসে। কলে জাহাঙ্গীর বলেন, "কয়েকজন আমারে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে বাঁচাতে হলে এক কোটি টাকা দেওয়া লাগবে। টাকা না দিলে আমাকে তারা খুন করবে।" এতটুকু বলেই ফোন কেটে দেন তিনি। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ রয়েছে। কোথায় কিভাবে টাকা দিতে হবে সেটা তখন বলেনি।
ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত
রেশমা খাতুন আরও বলেন, "আমাদের দোকানের পাশেই আমেনা ফার্মেসি নামে আরেকটা ভেটেরিনারির দোকান রয়েছে। মার্কেট মালিক ইউসুফের সঙ্গে দোকানটির মালিক শাহ আলমের ডিট সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ হয়। এরপর ইউসুফ শাহ আলমের দোকানটি আমার স্বামীর কাছে ভাড়া দেন। দুটো দোকান এক সঙ্গে বড় করে আমার স্বামী ব্যবসা করছিল। এর জেরে শাহ আলম আর আমার স্বামীর নানা বিরোধ সৃষ্টি হয়।" তিনি উল্লেখ করেন, এর আগেও প্রাইভেটকারে তার স্বামীকে চাপা দিয়ে হত্যার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা ধারণা করছেন, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে এ অপহরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযান
এ বিষয়ে যশোর কোতয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছেন। অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে তাদের অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুত উদ্ধার করতে পারবেন। পুলিশের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খোঁজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে এমন অপহরণের ঘটনা বিরল নয়, তবে এত বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি উদ্বেগজনক। তারা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার এখন অপহৃত সদস্যের নিরাপদ ফেরতের জন্য প্রার্থনা করছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।
