পটুয়াখালীতে ঈদুল ফিতরে ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা: তিন সদস্য আটক
পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে সারা দেশের মতো পটুয়াখালীতেও ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন ব্যাংক এলাকায় গ্রাহকদের লক্ষ্য করে ওত পেতে থাকা এবং টাকা ছিনতাই কিংবা ব্যাগ কেটে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা বেড়ে গেছে। এমনই একটি চক্রের তিন সদস্যকে সফলভাবে আটক করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ ও আটকের প্রক্রিয়া
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে পটুয়াখালী শহরের সোনালী ব্যাংকের নিউ টাউন শাখা থেকে এই আটক অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকে আগত গ্রাহকদের টার্গেট করে চার সদস্যের একটি দল ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান নেয়। তাদের সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগে থেকেই সাদা পোশাকে ব্যাংক এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ সদস্যরা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে চেহারা মিলিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় অপর এক সদস্য পালিয়ে যান, যার সন্ধানে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
আটককৃতদের পরিচয় ও পুলিশের বক্তব্য
আটককৃতরা সবাই খুলনা বিভাগের বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন খুলনার ঝন্টু শেখ (৪৮), বাগেরহাটের রবি হাওলাদার (৪৯) এবং খুলনার দেলোয়ার হোসেন (৬২)। পটুয়াখালী সোনালী ব্যাংকের নিউ টাউন শাখার প্রধান মো. কাউসার মোল্লা বলেন, "প্রতি ঈদ ও কোরবানিকে সামনে রেখেই এসব চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ব্যাংকের মধ্যে সন্দেহজনকভাবে কিছু ব্যক্তির চলাফেরা লক্ষ্য করে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করি।"
তিনি আরও যোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংকের সকল দরজা বন্ধ করে দিলে অভিযুক্তরা ছোটাছুটি করতে থাকে, তখন তাদের আটক করা হয়। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জমান বলেন, "আটক তিনজনই খুলনা জেলার বাসিন্দা। ঈদকে সামনে রেখে ব্যাংকপাড়ায় পুলিশের বাড়তি নজরদারি থাকায় কোনো অঘটন ঘটানোর আগেই তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই ঘটনা ঈদ উপলক্ষে ব্যাংক এলাকায় বাড়তি সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। পুলিশের মতে, ছিনতাইকারী চক্রগুলো প্রায়ই ধর্মীয় উৎসবের সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে, যেহেতু তখন ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের লেনদেন বেড়ে যায়। তাই গ্রাহকদের সচেতন থাকা এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এছাড়াও, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আগে থেকেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কৌশল এই আটক অভিযানে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।



