সুন্দরবনে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য আটক, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
সুন্দরবন এলাকায় কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড। আটককৃত ব্যক্তির নাম আফজাল সরদার (৩২), যিনি খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত।
যৌথ অভিযানের বিস্তারিত
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা, আউটপোস্ট নলিয়ান, স্টেশন কয়রা এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানটি কয়রা থানাধীন নারায়নপুর এলাকায় সংঘটিত হয়, যেখানে আফজাল সরদারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আফজালের সূত্র ধরে বেলা ১১টায় মোংলা থানাধীন পাশাখালী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ
এই দ্বিতীয় অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
- ১টি শর্টগান
- ১টি একনলা বন্দুক
- ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ
- ১টি ওয়াকিটকি সেট
এই উদ্ধারকৃত সামগ্রীগুলি ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার শক্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আফজাল সরদারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড
আফজাল সরদার দীর্ঘদিন ধরে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় মোট ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা তার অপরাধমূলক ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।
নির্বাচনী সময়ে কোস্টগার্ডের সতর্কতা
কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে, কোস্টগার্ড বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যাতে অপরাধীদের দমন করা এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এই অভিযানটি সুন্দরবন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোস্টগার্ডের সক্রিয় ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ধরনের ক্রমাগত প্রচেষ্টা অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
