ঝিনাইদহে নিখোঁজ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু: বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র একদিন পর তাবাসসুম (৭) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বারবাজারের একটি বাগান থেকে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ পাওয়া যায়, যা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও নিখোঁজ হওয়ার পটভূমি
নিহত তাবাসসুম স্থানীয় বারবাজার এলাকার বাসিন্দা ছিল। গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল বলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেলে বাড়ি থেকে খেলার জন্য বের হয়ে আর ফেরেনি তাবাসসুম। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন, কিন্তু কোনো সফলতা আসেনি।
মরদেহ উদ্ধার ও পুলিশের তদন্ত
আজ সকালে স্থানীয় লোকজন একটি পরিত্যক্ত স্থানে বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, "সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছি। শিশুটির হাত-পা বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করছে, যাতে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনায় স্থানীয়রা গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বারবাজার এলাকার বাসিন্দারা শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন। শিশু হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ঝিনাইদহে বিরল নয়, যা এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে অপরাধীদের ধরে ফেলতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেবে। তবে, স্থানীয়রা দাবি করছেন যে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও জোরদার নজরদারি ও সচেতনতা প্রয়োজন।
