ফরিদপুরে ইজিবাইক চোর চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১৮টি যান ও যন্ত্রাংশ
ফরিদপুরে ইজিবাইক চোর চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ইজিবাইক চোর চক্রের ১২ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১৮টি যান ও যন্ত্রাংশ

ফরিদপুরে পুলিশ একটি আন্তজেলা ইজিবাইক চোর চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি চুরি করা ইজিবাইক কেটে অংশবিশেষ আলাদা করে অন্য যন্ত্রাংশের সঙ্গে জোড়া লাগিয়ে নতুন রূপ দিয়ে বিক্রি করত। ধরা যাতে না পড়ে, সে জন্য ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্রও তৈরি করা হতো। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ভুয়া গ্যারেজের নাম-ঠিকানাযুক্ত ভুয়া সিলমোহর ব্যবহার করা হতো এ কাজে।

সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য

গতকাল বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় করা একটি ইজিবাইক চুরির মামলার তদন্তে এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। মামলার বাদী জাহিদুল ইসলাম (৪০)। ১৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে শহরের কোর্টপাড়া জামে মসজিদের সামনে ইজিবাইকটি তালাবদ্ধ করে আদালতে যান তিনি। প্রায় ৪৫ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, সেটি চুরি হয়েছে।

তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুর হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথমে গোপালগঞ্জের আলাল ফকির (২৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের তিনটি দল ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মাগুরা ও শরীয়তপুরে অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্য, ক্রেতাসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।

উদ্ধারকৃত যান ও যন্ত্রাংশের তালিকা

পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানে ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সচল ও ৬টি অচল। এ ছাড়া চারটি চ্যাসিস, একটি বডির কাটা অংশ, সাতটি গ্লাস ফ্রেম, তিনটি কেবিন, তিনটি মাঝের বেড়া, তিনটি পেছনের বেড়া, দুটি বাম্পার, দুটি সকেট জাম্পার, একটি কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে। এই উদ্ধারকৃত সামগ্রী চক্রের অবৈধ কার্যক্রমের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে।

পুলিশের এই সফল অভিযান ফরিদপুর ও আশেপাশের এলাকায় ইজিবাইক চুরির ঘটনা কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।