আলী হোসেন ফকির বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন
আলী হোসেন ফকির নতুন আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ

আলী হোসেন ফকির বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন

নবনিযুক্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া

এর আগে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে সরকার নিয়োগ দিয়েছে। এই পদোন্নতি তার দীর্ঘ কর্মজীবনে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কর্মজীবনের উত্থান-পতন ও রাজনৈতিক প্রভাব

জানা যায়, মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তার কর্মজীবন রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে জড়িত নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাকে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়, কিন্তু বিএনপি আমলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরি ফিরে পান। পরবর্তীতে আবার আওয়ামী লীগ আমলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, যা তার পেশাগত যাত্রাকে জটিল করে তোলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় এসপি পদমর্যাদায় চাকরি ফিরে পান। এরপর তিনি সুপার নিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন, যা তার পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দেয়।

ব্যক্তিগত পরিচয় ও অতীত অভিজ্ঞতা

আলী হোসেন ফকিরের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার প্রথম আমলে তিনি আওয়ামী রোষানলের শিকার হন এবং সে বছর তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরি ফিরে পান, যা তার স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করে।

কর্মজীবনে তিনি চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান। এসপি হিসেবে একাধিক জেলায় পদায়ন পান, এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালে ডিএমপির উত্তরা জোনের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি জাতিসংঘ মিশনে যান, যা তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে। জাতিসংঘ থেকে দেশে ফেরার পর তাকে রাজশাহী ডিআইজি অফিসে এসপি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। সেখানে থাকা অবস্থায় ২০২২ সালে শেখ হাসিনার সরকার তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়, যা তার কর্মজীবনের আরেকটি বাঁক হিসেবে চিহ্নিত।

এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশ পুলিশের নেতৃত্বে একটি পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। আলী হোসেন ফকিরের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।