নারায়ণগঞ্জে নারী আসামি গ্রেফতারে হামলা: ৬ পুলিশ সদস্য আহত
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক নারী আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার রাতে সাতগ্রাম ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে এ ঘটনা সংঘটিত হয়, যা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় পুলিশ ও গ্রামবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার রাত ১টার দিকে রসুলপুর গ্রামে একটি পুলিশ টিম সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আসমা বেগমকে (৪৫) গ্রেফতার করতে যায়। তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে আসমা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে ভান বলে প্রমাণিত হয়। এই সুযোগে তার স্বজনরা চিৎকার করে উঠেন যে পুলিশ আসমাকে মেরে ফেলেছে, ফলে আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের লোকজন দ্রুত জড়ো হয়ে পুলিশকে ঘেরাও করে ফেলেন।
এ সময় উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে জনতা পুলিশ সদস্যদের মারধর শুরু করে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে অসুস্থতার ভান করা আসমা আক্তার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশ সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার পর, থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসে তাদের উদ্ধার করে।
আহত পুলিশ সদস্য ও চিকিৎসা
হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এসআই অজিত চন্দ্র বর্মণ, এএসআই আরিফ হোসেন, এএসআই ফারুক, এএসআই শরীফুল ইসলাম শরীফ, এএসআই সাইফুল ইসলাম এবং এএসআই নিজাম উদ্দিন। তাদের সকলকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তবে ঘটনাটি পুলিশ বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থা
আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সরকার ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, "ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আসমাকে আটক করার পর তিনি অসুস্থতার ভান করে পড়ে যান। একপর্যায়ে তার স্বজনরা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সদস্যদের উদ্ধার করে এবং পাঁচজন সন্দেহভাজনকে আটক করে।
আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এসআই অজিত চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর শিমুল মিয়া, নীরব হোসেন, নারগিস আক্তার, নাসরিন আক্তার এবং রোকসানা বেগমকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ওসি আলাউদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, "এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।"
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এ ঘটনা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের ওপর হামলাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গ্রেফতার ও মামলা দায়ের করায় স্থানীয়রা কিছুটা স্বস্তি বোধ করলেও, ঘটনাটি পুলিশি অভিযানের সময় জনগণের সহযোগিতার অভাব এবং সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের হামলা বিরল নয়, কিন্তু পুলিশ সদস্যদের এভাবে আহত হওয়া এবং গ্রেফতার কার্যক্রমে বাধার ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা আরও তদন্ত চালিয়ে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সক্রিয় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
