ঝালকাঠির চার সংসদ সদস্য: সরাসরি ও সংরক্ষিত আসনে নেতৃত্বে তিন নারী
ঝালকাঠি জেলার রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যেখানে সরাসরি নির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসন থেকেও দুজন মনোনয়ন পেয়েছেন। মোট চারজন সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনজনই নারী, যা জেলার নারী নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী উদাহরণ তৈরি করেছে। এই চার জনের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির চারটি ভিন্ন উপজেলায় অবস্থিত, যা জেলার প্রতিটি অঞ্চলের স্বতন্ত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রাপ্তরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ৩৬ জনের তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। এই তালিকায় ১২ নম্বরে আছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের সহসভাপতি জীবা আমিনা খান। তিনি ঝালকাঠি-২ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রামে। তাঁর বাবা আক্তার উদ্দিন আহমেদ পাকিস্তান আমলে মন্ত্রী ছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক পটভূমিকে সমৃদ্ধ করেছে।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনে ১১–দলীয় জোট থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রী মাহমুদা আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঝালকাঠি-১ আসনের কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া গ্রামে। তিনি ঝালকাঠি-১ (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর) আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান। পরে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন, যা রাজনৈতিক জোটের গতিশীলতা প্রতিফলিত করে।
সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত হন বিএনপির রফিকুল ইসলাম। তাঁর গ্রামের বাড়ি রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় গ্রামের চল্লিশ কাহনিয়া গ্রামে। অন্যদিকে, ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসন থেকে সংসদ সদস্য হন বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। তাঁর স্বামীর বাড়ি নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নে। এই দুজন সরাসরি নির্বাচিত সদস্য জেলার দুটি প্রধান আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
স্থানীয় উন্নয়নে প্রত্যাশা
এর ফলে ঝালকাঠির চারটি উপজেলা—রাজাপুর, নলছিটি, সদর ও কাঁঠালিয়া এবার সংসদে আলাদা প্রতিনিধি পাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একই জেলার একাধিক প্রতিনিধির কারণে বিভিন্ন এলাকার সমস্যা সংসদে পৃথকভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে উন্নয়ন কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ হোসেন বলেন, "আগে একটি আসনের সমস্যা অনেক সময় অন্য এলাকায় গুরুত্ব পেত না। এখন চারজন সংসদ সদস্য থাকায় প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরতে পারবেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জেলার মানুষের প্রত্যাশা এবার আরও জোরালোভাবে জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত হবে, যা স্থানীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
এই পরিবর্তন ঝালকাঠি জেলার রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে এবং নারী নেতৃত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা জেলার সামগ্রিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।



